স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী নগরীর বেলপুকুর থানার একটি চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস ডাকাতি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দস্যুতার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, ১৪ এপ্রিল আনুমানিক ১০ ঘটিকার সময় পাবনা ডেইরি ফার্মের কর্মচারী মো. মাসুদ রানা প্রায় ২ হাজার লিটার শীতলকৃত তরল দুধ নিয়ে পাবনা থেকে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন। দুধ আনলোড শেষে সেন্টার ম্যানেজার প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য তাকে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি উক্ত টাকা লরির চালকের আসনের পেছনে রেখে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
একই দিন দুপুর আনুমানিক ২:৩০ ঘটিকার সময় বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পিছন থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন নীল রঙের একটি মোটরসাইকেলে করে আসা অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা লরির গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তারা লরির জানালার কাঁচ ভেঙে চালকের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং লরির ভেতরে থাকা ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ ২ জন আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও তাদের নিকট থেকে লুণ্ঠিত নগদ ৩৩ হাজার টাকা এবং ২টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি আব্দুর রহমান ওরফে ডাবলু (৩৫) এবং তার সহযোগী আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলনকে(৪৮) জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাজপাড়া থানাধীন লক্ষ্মীপুর বাকির মোড় এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
