নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ রবিবার। রাত ১১:১৯। ১৪ জুন, ২০২৬।

পুঠিয়ায় তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক! কমছে কৃষি জমি

জুন ১৪, ২০২৬ ৮:২৭ 👁️ ১৮ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার, পুঠিয়া : পুঠিয়ায় তিন ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক। এতে করে প্রতি বছর কৃষি জমি কমছে বলে এলাকাসী অভিযোগ করেছে। উপজেলা ৬টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি ইউনিয়ে এ অবস্থা দেখা দেছে। তবে সবচেয়ে বেশি জিড়পাড়া, ভালুকগাছি ও শিল শাড়িয়া ইউনিয়ে এ পুকুর খননে প্রবণতা বেশি।

মাছ চাষ অধিক লাভ জনক হওয়ায় এ অঞ্চলে পুকুর কাটার হিড়িক পড়েছে। উপজেলা এই তিনটি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বিলেই চলছে পুকুর খনন। মাছ চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলে পুকুর খননে হিড়িক পড়েছে।

প্রভাবশালীদের সহায়তা একদল পুকুর খনন সিন্ডিকেট এ কাজ করছে বলে জানাগেছে। প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহন করেও থামছেনা পুকুর খনন। প্রায় এক দশ আগে উপজেলার শিলমাড়িয়া ই্উনিয়নের কিছু নিচু এলকায় পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করা হয়। এসময় এসব নিচু এলাকা ছিল এক ফসলি। তাই ফসল করে লাভ না হওয়া তারা মাছ চাষে ঝুকে পড়ে। বর্তমানে তিনফলি জমিতে চলছে পুকুর খনন।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার

এই উপজেলায় এক্সকেভেটর দিয়ে তিন ফসলি উর্বব জমি কেটে পুকুর খনন করার ফলে প্রতি বছর আবা দযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে করে বছর শেষে ফসলি জমির পািরমান ভয়ং করভাবে হ্রাস পাবে বলে এলাকার সাচেত মহলে অ ভিমত।

পুঠিয়া উপজেলা কৃষি প্রধান হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের ফস ল ধান, পাট, আখ, আলু, বেগুন, রসুন, পিয়াজসহ বিভিন্ন রকমের ফসর উৎপাদিত হয়। এসব ফসল এলাকার চাহিদা পুরন করে দেশের অন্যত্র বিক্রি করা হয়। এ ভাবে পুকুর খনন হলে অচিরেই খাদ্য সংকট দেখা দেবে।

এর প্রভাব পড়বে সারা দেশেও। তবে পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী কৃষি জমির কমে যাওয়ায় কথা স্বীকার করেন। তবে কি পরিমান কৃষি জমি কোমেছে তার কোন সঠিক তথ্য তাদের কাছে নাই বলে তিনি জানান। শুধু কৃষি জমরি ক্ষতি হচ্ছে তা নয় মাটি বহনাকরী ট্রাক্ট টার চলাচলে সড়ক ও মহাসড়কের ব্যবপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করলেন ভূমিমন্ত্রী

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, বিভিন্ন সময় আমরা পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমান ও পুকুর খননে ব্যবহৃত এস্কেভেটর জব্দ বা অকেজো করেও পুকুর খনন কমছে না।

এ অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এ উপজেলায় ধানসহ অন্যান্য আবাদের উৎপাদন কমে যাবে। উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে মমিনুল হক জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি স্থানে চলছে পুকুর খনন। এছাড়াও জিউপাড়ার আমাবাগান কেটে চলছে পুকুর খনন। এসব পুকুরের মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়।

এছাড়াও আনেকেই মাটি বহনকারী ট্রাক্টারের সাথে যোগাযোগ করে ৮শত থেকে ১হাজার টাকায় মাটি কিনছে। মাটি বহকারী ট্রাক্টারগুলো চালতে দেখা যায় অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালকদের। যাদের কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স বা গাড়ি চালানোর কোন বৈধ কাগজপত্র নেই।

আরও পড়ুনঃ  দেশে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা, শিগগিরই আসছে চীনা প্রতিনিধিদল : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

এসব পুকুর খননের ফলে উপজেলা বেশ কয়েকটি বিলে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। নিচু জমিতের স্থায়ী জরাবদ্ধতার কারণে বাধ্য হয়ে জমির মালিকেরা পুকুর খননের জন্য জমি দিচ্ছেন। বর্তমানে পুকুর খননকারীরা দিনের আলো এড়িয়ে রাতের বেলাতে পুকুর খনন করছে। যাতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পুকুর খনন করা যায়।

এ বিষয়য়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বা হী অফিসার লিয়াকত সালমান বলেন, পুকুর খন নের খবর পাওয়া মাত্রই অভি যান পরিচালনা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও পুকুর খননে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি এস্কেকে টের জব্দ ও বিকল করা হয়েছে। মূলত মধ্যস্বত্বভোগী একটি চক্র কৃষকের সব দায়ভার নিয়ে পুকুর খনন করে দিতে উৎসাহিত করছে বলে এ কর্মকর্তা জানান।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।