স্টাফ রিপোর্টার : শিল্প, বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, চামড়া খাতকে যদি আমরা পূর্ণমাত্রায় বিকশিত করতে পারি এবং সারা বছর দেশের সংগৃহীত সব চামড়া সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা যায় তাহলে এই খাত থেকে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। তিনি বলেন, সরকার চামড়া এবং চামড়া দিয়ে প্রস্তুত পণ্য রপ্তানিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মন্ত্রী শুক্রবার (২৯ মে) সাভারে বিসিক চামড়া শিল্পনগরী-এর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি কারখানাগুলো স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল। উচ্চমাত্রার বর্জ্য উৎপন্ন হওয়া ট্যানারি শিল্প এমন স্থানে হওয়া উচিত, যেখানে আধুনিক বর্জ্য শোধনাগারের সকল প্রকার সুবিধা রয়েছে। তবে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তর ছিল অপরিকল্পিত ও অবহেলাপূর্ণ, যার কারণে এখাতটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যে কারণে মাঝপথে অনেকগুলো শিল্প প্রতিষ্ঠান হারিয়ে গেছে।
মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের কার্যক্রমে ইতালিকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ খাতের দূষণ রোধ করতে ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে সরকারের সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ট্যানারিগুলোর তরল বর্জ্য শোধনের জন্য স্থাপিত সিইটিপি-এর দৈনিক শোধন ক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার, যা পিকের সময়ে উৎপাদিত ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্যের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
তিনি বলেন, বর্তমানে সরকার দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথমত, সিইটিপিকে পরিকল্পিত দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন সক্ষমতা ফিরিয়ে নেওয়া এবং ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার (ক্রোমিয়াম রিকভারি) ব্যবস্থার উন্নন করা। দ্বিতীয়ত, হস্তান্তরের সময় ঝরে যাওয়া শিল্প প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ঋণে দুর্দশাগ্রস্থ চামড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিভাবে ঘুরে দাঁড় করানো যায় সে বিষেয়ে কাজ করা।
পরে মন্ত্রী শিল্পনগরীর সদর ও বে-ট্যানারি কারখানা পরিদর্শন করেন এবং মালিকদের সঙ্গে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান, বিসিকের চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
#
