নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

পাকিস্তানে পুলিশ স্টেশনে ধর্ষণ, ৭৮ কর্মকর্তা-সদস্যের সবাইকে অব্যাহতি

আগস্ট ৬, ২০২৬ ৭:০৫ 👁️ ৮ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরের পুলিশ স্টেশনে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় ওই স্টেশনের ৭৮ জন সদস্য-কর্মকর্তার সবাইকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ধর্ষণের মূল অভিযুক্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

গত কাল বুধবার লাহোর পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (অপারেশন্স) ফয়সাল কামরান ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

লাহোরের গাজিয়াবাদ পুলিশ স্টেশনে ঘটেছে এ ঘটনা। পুলিশ এবং পাকিস্তানি গণমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে থানায় নিয়ে এসেছিলেন অভিযুক্ত ওই এএসআই। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ওই তরুণী বাড়ি ফেরার পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন। বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই তরুণীকে পুলিশ স্টেশনে আনার পর থানা হাজতে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন ওই এএসআই।

আরও পড়ুনঃ  মোহনপুরে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

গাজিয়াবাদ পুলিশ স্টেশনে কর্মরত ৭৮ কর্মকর্তা ও সদস্যকে সাসপেন্ড করার কারণ প্রসঙ্গে দ্য গার্ডিয়ানকে ফয়সাল কামরান বলেন, “পুলিশবিধির অনুযায়ী, কোনো থানায় যদি পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কোনো অন্যায় বা অপরাধমূলক কোনো ঘটনা ঘটে— তাহলে সংশ্লিষ্ট ওই থানার সব কর্মকর্তা ও সদস্যকে তার দায়ভার নিতে হয়। অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্য যখন ওই তরুণীকে স্টেশনে নিয়ে আসেন, সে সময় স্টেশনে কোনো নারী পুলিশ সদস্য ছিল না এবং সে সময় থানায় উপস্থিত কোনো সদস্য বা কর্মকর্তা তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেননি।”

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

এ ঘটনায় পাকিস্তানের মানবাধিকার ও নারী অধিকার সংস্থাগুলো ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল, সংবাদ মাধ্যমও এ ঘটনা নিয়ে সরব ছিল। লাহোরভিত্তিক নারী অধিকারকর্মী ফারজানা বারি দ্য গার্ডিয়ানকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “এটি একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা এবং পুলিশের দীর্ঘদিনের জবাবদিহিতার অভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি প্রকট উদাহারণ। পুলিশের অসদাচরণ এবং হেফাজতে ধর্ষণের অভিযোগ নতুন নয়। আমরা বছরের পর বছর ধরে এমন ঘটনা ঘটতে দেখছি।”

“এটি একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা এবং এটি পুলিশের দীর্ঘদিনের জবাবদিহিতার অভাবকেই প্রতিফলিত করে,” বলেছেন নারী অধিকার কর্মী ফারজানা বারি। “এটি ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি প্রকট উদাহরণ। পুলিশের অসদাচরণ এবং হেফাজতে ধর্ষণের অভিযোগ নতুন নয়, এবং আমরা বছরের পর বছর ধরে এমন ঘটনা দেখে আসছি।”

আরও পড়ুনঃ  দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পূর্বাভাস

তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের নারী অধিকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে পুলিশ হেফাজতে নারীদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্নভাবে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন, কিন্তু সরকারের উদাসীনতার কারণে এক্ষেত্রে অগ্রগতির হার প্রায় শূন্য।

উল্লেখ্য, বিশ্বের যেসব দেশে নারীদের লক্ষ্য করে সহিংসতার হার বেশি— সেসবের মধ্যে পাকিস্তান অগ্রসারিতে রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৬ মাসে শুধু লাহোরেই ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও অন্যান্য সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২০ হাজারেরও বেশি নারী।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।