জহিরুল ইসলাম, ফরিদপুর : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সুলতানা জাহান এর বিরুদ্ধে নিয়মিত ও সময়মত অফিসে না আসা, স্টেশনে না থাকা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পর পর তিন সপ্তাহ তার অফিসে নজর রাখা হয়। এতে দেখা যায় তিনি বেলা ১১ টার পুর্বে একদিনও অফিসে আসেন না। কখনো তার কক্ষ তালা বদ্ধ থাকে আবার কখনো তালা বদ্ধ না থাকলেও তিনি অফিসে থাকেন না। মাঝে মধ্যে তিনি ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত থাকেন। সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১১.৩৫ এ অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে কল রিসিভ করেননি।
জানা গেছে, পিআইও সুলতানা জাহান এখানে বদলি হয়ে আসার পর থেকেই শুরু হয় তার স্বেচ্ছাচারিতা। তার বিরুদ্ধে নিয়মমত অফিসে না আসা, সিনিয়রদের নির্দেশনা না মানা, অফিসিয়াল কর্মকান্ড ব্যহতসহ ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য এবং সাধারণ মানুষের কাজে সহযোগীতা না করার অভিযোগ ওঠে। তিনি অফিসে না থাকলে অধিকাংশ সময় তার অফিসের স্টাফরা বলেন, তিনি ‘ফিল্ডে’ আছেন। এমনকি তিনি যোগদান করার পর এ যাবৎ কোন জাতীয় দিবসেই তাকে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
পিআইও সুলতানা জাহান নিয়মমত অফিস না করায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পের কাজ ব্যহত হচ্ছে। আজ সকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের প্রকল্প কার্য সহকারী মোহাম্মদ রুবেল জানান, স্যার এখনো অফিসে আসেননি। হয়ত ফিল্ডে আছেন। কোথায় আছেন জানতে চাইলে বলেন, মনে হয় মানিকদহ ইউনিয়নের খাল খননের কাজ দেখতে গেছেন।
এ বিষয়ে পিআইও সুলতানা জাহানের মুঠোফোনে কল দিলে (01*58-7***77) তিনি কলটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ-আবু-জাহের জানান, পিআইও এর এমন কর্মকান্ডে আমাদের কাজে নানা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সেবা গ্রহীতারা প্রায়ই আমার অফিসে অভিযোগ করছে। আমি পিআইওকে বারবার বলেছি। কিন্তু তিনি কারও কোন কথার তোয়াক্কা না করে তার মত করেই তিনি অফিস করেন। আমি তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকাও জানিয়েছি। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। এভাবে তো একটি অফিস চলতে পারে না। তিনি স্টেশনেও থাকেন না। এখানে বাসা নেওয়ার কথা তাও নেননি এখনো। তার বাড়ি নড়াইলে। সেখান থেকেই তিনি অফিস করেন। বার বার তাকে সতর্ক করেও কোন লাভ হচ্ছে না। তিনি স্টেশন ত্যাগ করলেও কাউকে জানান না। এগুলো একটা সমাধান দরকার।
এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, মহিলা মানুষের নানা ধরনের কাজ থাকে, লেট হতেই পারে। নিয়মিত কেন লেট হবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলবো।
