নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ শনিবার। বিকাল ৫:৩৭। ২৫ এপ্রিল, ২০২৬।

রামেক হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা

এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ৩:২৫
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী অঞ্চলে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধের সরকারি টিকার (র‍্যাবিক্স-ভিসি) সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার ব্যক্তিদের নিজের টাকায় টিকা কিনতে হচ্ছে। জানা গেছে,রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ছয়মাস ধরে জলাতঙ্কের টিকার চরম সংকট চলছে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত টিকা সরবরাহ করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে রোগীদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। তবে সেই টিকাও দুই সপ্তাহ আগে শেষ হয়েছে। ফলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের (এআরভি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

সরকারি এই হাসপাতালে বর্তমানে টিকার সরবরাহ শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় বিপাকে পড়েছেন কামড় বা আঁচড় নিয়ে আসা শত শত সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুনঃ  শহর ঘুরে দেখুন, জনগণের কাছে যান -স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীসহ আশেপাশের জেলা ও উপজেলাগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী কুকুর, বিড়াল কামড় ও আঁচড় খেয়ে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে আসছেন। নিয়ম অনুযায়ী, এসব রোগীকে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও গত ১৪ দিন ধরে কাউকে হাসপাতাল থেকে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে আসা অধিকাংশ রোগীই দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। হাসপাতাল থেকে ‘টিকা নেই’ জানিয়ে দেওয়ার পর রোগীরা বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া মূল্যে ভ্যাকসিন কিনছেন। এতে করে একেকজন রোগীর চিকিৎসায় কয়েক গুণ বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষেই বহন করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে মানুষ বাইরে ফার্মেসিতে খোঁজ করছেন। কিন্তু সেখানেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২১

পুঠিয়া থেকে আসা এক রোগী বলেন, কুকুরে কামড়ানোর পর টিকার জন্য কয়েক ঘণ্টা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরেছি। এই দীর্ঘ অপেক্ষা আর আতঙ্ক ছিল চরম যন্ত্রণার।

সাকিব নামে এক রোগী জানান, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন একেকটির দাম ধরা হচ্ছে ৪৮০ টাকা। এটা ভাগাভাগি করে দেওয়া যাবে। সেখানে খরচ কম হবে। কিন্তু আমরা কেন ভ্যাকসিন কিনব।

রামেক হাসপাতালে নওহাটা এলাকা থেকে আসা সামসুল ইসলাম জানান, টিকা কিনতে গিয়ে দেখি দাম অনেক বেশি, আবার সরকারি কেন্দ্রে সরবরাহ নেই। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রোডম্যাপ তৈরিতে ইউনেস্কোর সহায়তা কামনা তথ্যমন্ত্রীর

বিশেষজ্ঞদের মতে, কামড় খাওয়ার প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হাসপাতালে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের ফলে যদি কেউ সময়মতো টিকা না নিতে পারেন, তবে জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এই সংকট এখন জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, গত ছয় মাস ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে টিকা সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের নিজস্ব উদ্যোগে ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই হাজার ভ্যাকসিন কেনা হলেও তা দুই সপ্তাহ আগে শেষ হয়ে গেছে। বিষয়টি একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।