নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

আমরা মালিক নই, দেশের ১৮ কোটি জনগণের সেবক : ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

আগস্ট ৩, ২০২৬ ৫:৩৬ 👁️ ৮ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা দেশের মালিক নন, বরং তারা জনগণের সেবক বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, চেয়ারে বসলে নিজেকে দেশের মালিক মনে করার ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত সেবকের মনোভাব নিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

গতকাল চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে বন্যাকবলিত দেড় শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী, চাল, ধানবীজ, সার ও কীটনাশকসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৯ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা চরম হামলা, মামলা, নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হয়েও সর্বদা মানবসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। নিজেদের স্বউদ্যোগ ও সামর্থ্যকে মানুষের সেবায় এবং একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজে লাগাতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে বিশেষ মাদকবিরোধী টিমের অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

বন্যায় সরকারের ভূমিকা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ বন্যায় প্রথম থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভারী বর্ষণের পর থেকেই নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা, জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিনি নিজে এবং দলীয় নেতাকর্মী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সেবকেরা পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থেকে সরকারি ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  দুর্গাপুরে কুখ্যাত মাদকব্যবসায়ী আলামিনসহ গ্রেফতার ২

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরো জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরলস সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সাইক্লোন সেন্টার ও আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার ফলে মানুষের প্রাণহানি ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এ অভূতপূর্ব কৃতিত্বের জন্য প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের সকল সেবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্ব জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মতো দেশব্যাপী যদি আরও স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ তৈরি হয়, তবে সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরতা অনেক কমে আসবে। আমরা অপ্রয়োজনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় করি, তার দশ ভাগের একভাগও যদি দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পেছনে ব্যয় করা হতো, তবে দারিদ্র্যের হার অনেক আগেই হ্রাস পেত।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশে বিভেদ-বিভাজনের কোনো চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না: তথ্যমন্ত্রী

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের সামগ্রিক পরিবর্তন আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সরকারের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রজাতন্ত্রের সকল সেবকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, সবাই যেন এমনভাবে সেবাদান নিশ্চিত করেন যেন জনগণ মানসিকভাবে ও বাস্তবে অনুভব করতে পারেন যে তারাই এ দেশের প্রকৃত মালিক।

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।