স্টাফ রিপোর্টার : সারা দেশে একযোগে আগামী ১৯ মে থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’। ভূমি সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে জনগণের পরিচয় এবং প্রান্তিক পর্যায়ে জনবান্ধব সেবা পৌঁছে দিতে এ মেলার আয়োজন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। রোববার (১৭ মে) বেলা ১২টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ড. চিত্রলেখা নাজনীন।
তিনি বলেন, ভূমি সংক্রান্ত সেবাগুলোকে অটোমেশন ব্যবস্থায় নিয়ে আসার ফলে এখন জনগণ ঘরে বসেই অনেক সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। তবে এ নতুন ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতে এবং ব্যবহারবান্ধব করে তুলতেই এ মেলার আয়োজন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান। উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বোয়ালিয়া আরিফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ১৯ মে সকাল ১০টায় ঢাকার তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেশের সব জেলা ও উপজেলায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। রাজশাহী বিভাগেও বিভাগীয় শহরসহ প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে এ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
মেলায় ভূমি পোর্টালে নিবন্ধন, ই-নামজারি আবেদন, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও ডিসিআর প্রাপ্তি, মৌজাম্যাপ সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সেবা প্রদানও করা হবে। সেবা গ্রহীতারা মেলা প্রাঙ্গণেই ই-নামজারি আবেদন জমা দিতে, খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করতে এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে সহায়তা পাবেন।
এ ছাড়া ভূমি সেবা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ জানাতে জাতীয় হটলাইন ১৬১২২ এবং বিভাগীয় প্রশাসনের বিশেষ হটলাইন নম্বর ০১৭০৬৮৮৮৭৮৭ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হবে। মেলায় ‘ভূমি আমার ঠিকানা’ শীর্ষক তথ্যবহুল বুকলেটও বিতরণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজ ভাষায় ভূমি সেবা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতে সিঙ্গেল প্ল্যাটফর্মে ভূমি সেবা প্রদান, ডিজিটাল জরিপ ও ল্যান্ড জোনিং এবং জমি ক্রয়ের সঙ্গে সঙ্গে মালিকানা সনদ প্রদানের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলা ভূমি অফিস ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে একই সঙ্গে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ও ই-নামজারি সেবা চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলা সফল করতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সর্বস্তরের মানুষকে মেলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
