নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ শুক্রবার। রাত ৯:৪৩। ২৪ এপ্রিল, ২০২৬।

মাহফিলের দাওয়াত ঘিরে দাওকান্দি কলেজে উত্তেজনা, প্রদর্শকের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ

এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ৩:২২
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কলেজটির প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মারধর, শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জয়নগর ইউনিয়নের দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই কলেজজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগামী ৪ ও ৫ মে দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিতব্য তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের দাওয়াতপত্র দিতে কয়েকজন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি কলেজে প্রবেশ করেন। তাদের দাবি, অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়েই তারা ভেতরে যান।

আরও পড়ুনঃ  যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রতি পাকিস্তানের আহ্বান

তবে অভিযোগ রয়েছে, দাওয়াতপত্র দেওয়ার আগেই প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা উত্তেজিত হয়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বহিরাগতদের পক্ষ থেকে কোনো উসকানি ছিল না; বরং হীরার আচরণেই পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জয়নগর ইউনিয়ন কৃষকদল নেতা জয়নাল আবেদিন, মৎস্য ব্যবসায়ী শাহাদত এবং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এজদার আলীসহ আরও কয়েকজন।

ছবি- সংগৃহীত

স্থানীয়দের অভিযোগ, অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক হীরার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আগে থেকেই নানা আলোচনা ছিল। তাদের দাবি, হঠাৎ স্থানীয়দের উপস্থিতি পছন্দ না হওয়ায় হীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

আরও পড়ুনঃ  শহর ঘুরে দেখুন, জনগণের কাছে যান -স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আলেয়া খাতুন হীরা দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। তিনি প্রায় অধ্যক্ষের আশপাশে অবস্থান করেন এবং অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে অধ্যক্ষের যোগাযোগে বাধা দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, “আমি কাউকে অপমান করিনি। যারা এসেছিল তারা মাহফিলের নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিল। অধ্যক্ষকে রক্ষা করতে গিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। বরং আমাকেই মারধর করা হয়েছে।”

আরও পড়ুনঃ  পুঠিয়ায় কৃষি অফিসের উদ্যোগে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “কলেজে সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। ঘটনার সময় বাইরে কী হয়েছে তা আমি নিশ্চিত নই।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে।

উল্লেখ্য, এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।