নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ বুধবার। রাত ১২:৪৩। ৩ জুন, ২০২৬।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণের বাজেট দেওয়া হচ্ছে – অর্থমন্ত্রী

জুন ২, ২০২৬ ৯:৩১ 👁️ ১৯ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কেবল গতানুগতিক নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ঘরে অর্থনীতির সুফল পৌঁছে দেওয়ার বাজেট। বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় নিয়ে আসাই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকায় ইআরএফ অডিটোরিয়ামে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারগুলোর কাছ থেকে আমরা একটি ভঙ্গুর ও নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক-দেড় মাসের মধ্যে বাজেট প্রণয়ন করা অত্যন্ত কঠিন ও পরিশ্রমসাধ্য কাজ। দেশের সকল সূচক যেখানে নিম্নগামী, সেখানে অর্থনীতিকে সচল করতে নলকূপে ওপর থেকে পানি ঢালার মতো আমাদেরও অর্থনীতিতে পুঁজি ও বড় বাজেটের জোগান দিতে হচ্ছে, যাতে দেশের উৎপাদন ও কর্মসংস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করা যায়।

আরও পড়ুনঃ  কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক

অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র কেবল ভোটের জন্য নয়, অর্থনীতিতেও সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, জিডিপি শুধু বড় শিল্পকারখানা বা শিপিং সেক্টর থেকে আসে না। গ্রামীণ নারী, কামার, কুমার, তাঁতি, শীতলপাটি কারিগর থেকে শুরু করে আমাদের থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কর্মীর আয় জিডিপির অংশ। এই ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও প্রান্তিক উৎপাদকদের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ ও প্রণোদনা রাখা হয়েছে। বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশীদারিত্বে উন্নত প্রযুক্তি, ঋণ ও অ্যামাজন-ইবের মতো গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে তাদের পণ্য বিপণনের ব্যবস্থা করা হবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিগত দিনে পুঁজিবাজারকে ক্যাসিনোতে পরিণত করা হয়েছিল। আমরা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC) পুনর্গঠন করতে যাচ্ছি। এর ফলে ব্যাংকগুলোর ওপর ঋণের চাপ কমবে এবং বন্ড ও ক্যাপিটাল মার্কেটের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের পথ সুগম হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজার ও আইএফসি (IFC) বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ব্যাংকিং খাতের আন্ডার-ক্যাপিটাল ও লুটপাটের সংকট দূর করে ডেপোজিটরদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

আরও পড়ুনঃ  সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কারিগরি প্রশিক্ষণসহ ভাষাশিক্ষা প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে - সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতির দিকে যাচ্ছি। লাইসেন্স, পাসপোর্ট বা বিদ্যুৎ বিলের মতো সব ধরনের সরকারি অনুমোদনের জন্য একটি সিঙ্গেল ফোকাল পয়েন্ট থাকবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কোনো দপ্তর রেসপন্স না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমিশন কার্যকর হয়ে যাবে। সরকার ব্যবসার পথে বাধা হবে না, বরং সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করবে।

আরও পড়ুনঃ  ৩ মাসের জন্য বন্ধ সুন্দরবনের দুয়ার

মন্ত্রী বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রজেক্টের দৈনিক অগ্রগতি ড্যাশবোর্ডে দৃশ্যমান থাকবে এবং কোনো বিলম্ব হলে জবাবদিহি করতে হবে। এখন থেকে যেকোনো নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে ৪টি কঠোর মানদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে: ১. ভ্যালু ফর মানি ২. রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট ৩. জব ক্রিয়েশন ৪. এনভায়রনমেন্টাল কনসিডারেশন।

অনুষ্ঠানে ইআরএফ এর প্রেসিডেন্ট দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, বিটিএমএ এর প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল। এছাড়াও ইআরএফ এর সদস্যসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।