স্টাফ রিপোর্টার : বুধবার (১৭ জুন) রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবছর ৩১ মে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপিত হলেও, এবার ওইদিন সরকারি ছুটি থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সুবিধামতো সময়ে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বুধবার সকাল দশটায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় হতে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকার এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, স্বাস্থ্যের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, পিআইডির উপপ্রধান তথ্য অফিস মো. তৌহিদুজ্জামান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহা. আনোয়ারুল ইসলাম, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদা শারমীন নেলী প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
আলোচনা সভায় বক্তাগণ বলেন, দেশে মাদকসেবীদের প্রায় ৯৮ শতাংশই ধূমপানের মাধ্যমে তাদের আসক্তি শুরু করে। ধূমপায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই দেশে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
বক্তাগণ আরও বলেন, তামাক শুধু স্বাস্থ্যহানিই ঘটায় না, এটি একটি পরিবারের আর্থিক কাঠামোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একজন ধূমপায়ী দৈনিক যে পরিমাণ অর্থ তামাকের পেছনে ব্যয় করেন, তা দিয়ে তার পরিবারের দৈনিক সবজি বাজার করা সম্ভব। তামাক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বাজেটে যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বক্তারা।
পরোক্ষ ধূমপানের ভয়াবহতা তুলে ধরে তাঁরা বলেন, অনেক অভিভাবক অবচেতন মনে সন্তানদের সামনেই ধূমপান করেন, যার ফলে কোমলমতি শিশুরা কোনো দোষ না করেই বিষাক্ত ধোঁয়ার শিকার হচ্ছে। এসময় তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৮ বছরের নিচের কারও কাছে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় যে দণ্ডনীয় অপরাধ ঘোষিত হয়েছে, তার কার্যকর বাস্তবায়ন ও এর প্রচার জোরদারের করার দাবি জানান তাঁরা। একইসাথে আলোচনাসভায় তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারি চাকুরিতে ধূমপায়ীদের অযোগ্য ঘোষণারও দাবি তোলা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও প্রতিনিধি ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
