নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ রবিবার। রাত ৩:৫৭। ১৯ এপ্রিল, ২০২৬।

সোমবার বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১০:৩৩
Link Copied!

বগুড়া প্রতিনিধি : ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠা পায় বগুড়া পৌরসভা। সে হিসেবে প্রায় দেড় শতাব্দী পার হয়েছে এ পৌরসভার বয়স। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এ ‘পৌরসভা’ নামটি বদলে যাচ্ছে, নতুন নাম মহানগর (সিটি করপোরেশন) হচ্ছে আরমাত্র দুদিন পরেই। নতুন নামে ভূষিত হওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে এসে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। আর এ ঘোষণার পরে বগুড়া পৌরসভাটি দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন (মহানগর) পরিণত হবে।

বগুড়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮২১ সালে বগুড়াকে জেলা ঘোষণার পর জেলা শহর উন্নয়ন ও পরিচালনার জন্য ১৮৬৯ সালে বগুড়া টাউন কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক ডব্লিউ ওয়াভেল। এ কমিটি সাত বছর চলার পর ১৮৭৬ সালের ১ জুলাই বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা, সূত্রাপুর ও আশপাশের এলাকা নিয়ে বগুড়া মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয়। ১৯৮১ সালে পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেণির মর্যাদা পায়। সময়ের সঙ্গে ২০০০ সালে এর আয়তন ছিল ১৪ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার। এরপর ২০০৪ সালে বর্ধিত করে ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার করা হয়। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বগুড়া পৌরসভা প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটার।

সিটি করপোরেশনের জন্য আয়তন হতে হয় কমপক্ষে ২৫ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী স্থায়ী জনসংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০০ হলেও বাস্তবে এখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৬ হাজারের বেশি, যা নির্ধারিত মানদণ্ডের দ্বিগুণের বেশি। এ পৌরসভায় বেশি জনবসতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের চেয়ে আয়তনেও বড়।

আরও পড়ুনঃ  ‘নিজেদের হাতেই পরিচ্ছন্নতা অভিযান রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে

‘ক’ শ্রেণির এ পৌরসভাটি আয়তনে বড় হলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় অন্যান্য পৌরসভার মতোই বরাদ্দ পেয়ে থাকে। বগুড়া পৌরসভার সব মিলিয়ে রাস্তা আছে ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাকা রাস্তা আছে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। কাঁচা সড়ক ২৮৬ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। কাঁচা সড়কগুলো অধিকাংশ পৌরসভার বর্ধিত এলাকায় রয়েছে। এ ছাড়া আরসিসি ১৫৫ কিলোমিটার, ইটপাড়া সড়ক ১৭০ কিলোমিটার, সোলিং রাস্তা রয়েছে প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ পৌরসভার বার্ষিক আয় ৬০ কোটি টাকার বেশি হয়েছে।

বগুড়া পৌর এলাকায় রয়েছে সিরামিক, হিমাগার ফাউন্ড্রিশিল্প, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধশিল্প (অ্যালোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক, ইউনানি ও হারবাল), অটো রাইস মিল, ফ্লাওয়ার মিল, রাইস ব্রান ওয়েল মিল, প্রাণিসম্পদ শিল্প, অক্সিজেন রিফাইনারি প্লান্ট, রিয়েলে এস্টেট শিল্প, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ চারটি সরকারি কলেজ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেলসহ দুটি সরকারি হাসপাতাল, ব্যাংক, বীমা, শপিং মল, ফোর ও ফাইভ স্টার হোটেল রয়েছে একাধিক।

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি এ প্রস্তাবের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বগুড়া সদর ও শাহজাহানপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন যুক্ত করে সিটি করপোরেশনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মৌজা, জেএল নম্বর ও স্কেচ ম্যাপসহ বিস্তারিত তফসিল প্রস্তুত করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে অটোরিক্সা ছিনতাইকালে গ্রেপ্তার ২

পৌরসভা গঠনের প্রায় দেড়শ বছর পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে ঢাকাসহ দেশের ১১টি পৌরসভা বিভিন্ন সরকারের আমলে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু তারপরও অবহেলিত বগুড়া। দেশের সর্ববৃহৎ পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও বগুড়াকে সিটি করপোরেশন করা হয়নি। আয়তন, জনসংখ্যা, নিজস্ব রাজস্ব আয়সহ সব যোগ্যতা থাকার পরও সিটি করপোরেশন না হওয়ায় সরকারের সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে পৌরসভার চার পাশের ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে বগুড়া পৌরসভার আয়তন ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সে সময় ১২টি ওয়ার্ড থেকে ২১টি ওয়ার্ডে উন্নীত হয় বগুড়া পৌরসভা। পৌরসভাকে বৃহৎ আকার দেওয়ার মধ্য দিয়ে পরে বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল সে সময়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে বগুড়া পৌরসভা আর সিটি করপোরেশন হয়নি। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে বগুড়াবাসীর পক্ষ থেকে বারবার সিটি করপোরেশনের দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার রংপুর, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করেছে। কিন্তু বগুড়া দেশের সর্ববৃহৎ পৌরসভা হলেও তা পৌরসভাই রয়ে গেছে। অথচ সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণের শর্ত অনেক আগেই পূরণ করেছে বগুড়া। শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন হয়নি বলে নাগরিক সমাজের অভিমত।

আরও পড়ুনঃ  পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী

পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এলে বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা বগুড়াকে সিটি করপোরেশন করার প্রস্তাব দেন। এরপর এক চিঠিতে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত ও আপত্তি নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়। গত বছরের ২০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান পৌরসভার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে জানিয়েছিলেন যে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিজয় দিবসের আগেই সিটি করপোরেশন ঘোষণা করা হবে। কিন্তু পরে আর সেটিও হয়নি।

সম্প্রতি বর্তমান সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব ইমতিয়াজ মোরশেদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে জানা যায়, বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ ও বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা বন্দরকে নতুন উপজেলা ঘোষণাসহ আটটি উন্নয়ন প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সম্প্রতি প্রাক-নিকার (প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি) সচিব কমিটির সভা হয়। সেখানে বগুড়া সিটি করপোরেশন উন্নীতকরণের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসেনের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ এপ্রিল বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী বগুড়া সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় এসে সিটি করপোরেশনের ব্যাপারে জানাবেন।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।