জহিরুল ইসলাম, ফরিদপুর : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী (ক্রেডিট চেকিং কাম সার্টিফিকেট সহকারী) এস এম ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভেকু (এক্সক্যাভেটর) দিয়ে মাটি কাটার অনুমতি পাইয়ে দেওয়ার নামে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া খাসজমির ডিসিআর (খাজনা রসিদ) প্রদান, নামজারি ও বিভিন্ন ভূমি সেবায় অনিয়ম এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চললেও ইব্রাহিম তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে গোপনে চুক্তি করে মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং প্রশাসনিক ঝামেলা থেকে রক্ষা করার আশ্বাস দিতেন।
ভুক্তভোগী বজলুর রহমান ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দক্ষিণ আটরশি এলাকার বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করার সময় ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদরুল আলম ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এরপর প্রশাসনিক অভিযান থেকে বাঁচতে তিনি ইব্রাহিমের মামা পরিচয়দানকারী হায়দার শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে হায়দার শরীফের মাধ্যমে ইব্রাহিমের সঙ্গে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
বজলুর রহমান আরও বলেন, চুক্তির পর তিনি আবার মাটি কাটা শুরু করেন। কিন্তু পরে পুনরায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তাকে আরও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
তিনি বলেন, জরিমানার পর আমি ইব্রাহিমকে ফোন দিলে তিনি বলেন, ‘আপনার সঙ্গে আমার এক মাসের চুক্তি ছিল। সেই সময় শেষ হয়ে গেছে। এখন জরিমানা হলে আমার কিছু করার নেই।’
এ বিষয়ে ইব্রাহিমের মামা পরিচয়দানকারী হায়দার শরীফের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকার লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এস এম ইব্রাহিম। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদরুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী বলেন, এটা সম্পূর্ণ বেআইনী, আমি সম্প্রতি এখনে যোগদান করলাম, আপনি ভুক্তভোগীদেরকে আমার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) বলেন,আপনি উপজেলা নিবার্হী অফিসারকে অভিযোগ করেন,তারপর আমি বিষয়টি দেখছি।
এ ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন,বিষয়টি আমি দেখছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি (মিউটেশন), খাজনা দাখিল, জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেবা পেতে দীর্ঘদিন ধরেই ঘুষ ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ রয়েছে। অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারী ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধ অর্থ আদায় করছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
