নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার। ভোর ৫:০৩। ৩০ এপ্রিল, ২০২৬।

রাজশাহীর সিল্কপাড়ায় ঈদের আমেজ

মার্চ ৫, ২০২৬ ৫:২৯
Link Copied!

মঈন উদ্দিন : আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততার শেষ নেই রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সিল্কপাড়ায়। দেশের সিংহভাগ রেশম সুতা ও সিল্ক পণ্য উৎপাদনের কেন্দ্র এই অঞ্চলটি ঈদের মৌসুমে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। গুটি থেকে সুতা কাটা, মেশিনে কাপড় বোনা, রং লাগানো আর তাতে নকশা ফুটিয়ে তোলা—সব কাজেই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। অন্যদিকে, সাজানো শোরুমগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনা।
দেশের সিংহভাগ রেশম পণ্য বা সিল্কসুতা রাজশাহীতেই উৎপাদিত হয়। বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সদর দপ্তরও রাজশাহীতেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী রেশম কারখানাটি খুঁড়িয়ে চলছে। তবে বেসরকারি উদ্যোগে বিকশিত হয়ে চলেছে রাজশাহীর সিল্ক। এককালে রেশম সুতা থেকে শুধু শাড়ি তৈরি হলেও এখন পণ্যের বৈচিত্র্য ও নকশার বিস্তৃতি ঘটেছে। এখন সব বয়সী ও শ্রেণির মানুষের পরিধান উপযোগী নানা ধরনের রেশম বস্ত্র তৈরি হচ্ছে রাজশাহীর বিভিন্ন কারখানায়। কারখানাগুলো রাজশাহীর বিসিক সপুরা এলাকায় গড়ে ওঠায় এই এলাকাকে বলা হয় সিল্কপাড়া। এখানে সপুরা সিল্ক, ঊষা সিল্ক, আমেনা সিল্ক, রাজশাহী সিল্কসহ বেশ কিছু শো-রুম রয়েছে।
সরেজমিনে সপুরা এলাকার সিল্কপাড়া ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কাঠের ফ্রেমে বাঁধা শাড়িতে রঙের ছোঁয়া দিচ্ছেন শিল্পীরা, কোথাও থরে থরে সাজানো রয়েছে নানা ডিজাইনের সিল্ক পণ্য। সপুরা সিল্ক, উষা সিল্ক, আমেনা সিল্ক ও রাজশাহী সিল্কসহ প্রতিটি শোরুমেই কর্মচারীরা ব্যস্ত ক্রেতাদের সামলাতে। শাড়ি, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিসসহ নানা ধরনের সিল্ক পণ্যে ভরে উঠেছে শোরুমগুলো।
ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এবার সিল্কের শাড়ি ও পাঞ্জাবি। সপুরা সিল্কে ঈদের পোশাক কিনতে আসা একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন, সিল্কের শাড়ি আমার সব সময়ই পছন্দ। এবারও শাড়ি কিনতে এসেছি। শোরুমে ঘুরে দেখছি, কারণ প্রতিটিতেই আলাদা আলাদা ডিজাইন এসেছে।
উষা সিল্কে শাড়ি কিনতে আসা গৃহিণী রেবেকা সুলতানা বলেন, ঈদ বা যেকোনো অনুষ্ঠানে সিল্কের কাপড় না হলে চলে না। এবার দাম একটু বেশি, তবে ডিজাইনে নতুনত্ব আছে।
আরেক ক্রেতা জেসমিন আরা বলেন, আমি রাজশাহীর মেয়ে। যেকোনো অনুষ্ঠানে সিল্কের কাপড় পরতেই ভালো লাগে। দাম কিছুটা বেশি হলেও নতুন ডিজাইন দেখে মুগ্ধ হয়েছি। উষা সিল্কে শাড়ি দেখছিলেন সরকারি কর্মচারী মঞ্জিলা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, শুক্রবার ছুটির দিনে ঈদের বাজার করতে এসেছি। নানা ডিজাইনের শাড়ি এসেছে, তাই সময় নিয়ে দেখছি।’
তবে এবারও সিল্কপ্রেমীদের গতবারের মতই টাকা গুনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সুতা ও রং আমদানিতে কিছুটা দাম বাড়লেও সিল্ক পণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি।
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সপুরা সিল্কের ব্যবস্থাপক সাইদুর রহমান বলেন, এবার ক্রেতাদের সাড়া ভালো। নতুন নতুন ডিজাইন ও ফেব্রিক্স এনেছি, মোসলিন, র-সিল্ক শাড়ি এবং থ্রি-পিসের ভেরিয়েশন রয়েছে। তিনি বলেন, একটি দামী শাড়ির ডিজাইন এখন তুলনামূলক কম দামের শাড়িতেও পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন। তবে আমরা আশা করছি ১৫ রোজার পর থেকে বেচা-কেনা জমে উঠবে।
সিল্ক মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী জানান, এবছর সিল্কের দাম গতবারের মতোই রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, মার্চ মাস শুরু হওয়ার পর থেকে বেচাকেনা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ১৫ রোজার পর থেকেই ক্রেতাদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
তিনি আরও বলেন, এবারের ঈদ মৌসুমে সিল্কপণ্যের বিক্রি ভালো হলে অন্তত দুইশ’ থেকে আড়াইশ’ কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের চাপ বাড়লে সিল্ক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে।
এবারের বাজারে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা দামের শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। থ্রি-পিসের দাম ৫ হাজার থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা এবং পাঞ্জাবি সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। নতুনত্ব ও নকশার বৈচিত্র্যের কারণে বাড়তি দামে তেমন অভিযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।